সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ‘টেকনাফে মাদ্রাসা ও খানাকাহ দখল, কোটি টাকার সম্পদ লুটের অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তি দখল, লুটপাট এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকাশিত সংবাদে আমাদের নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমরা মাদ্রাসা বা খানাকাহের কোনো সম্পদ লুটপাট কিংবা আত্মসাৎ করিনি। বরং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা, ভোগদখল ও পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যেসব বিরোধ চলে আসছে, সেটি নিয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের জমির মালিকানা নিয়েও সংবাদে একতরফা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে আমাদের কাছে বৈধ দলিলপত্র রয়েছে। ফরাজ খাতুন জীবিত থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আমাদের নামে লিখে দিয়েছেন। ফলে শুধু সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই সম্পত্তিকে মাদ্রাসার সম্পত্তি কিংবা আমাদের দখলকে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
এ ছাড়া সংবাদে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের মোতাওয়াল্লি নিয়োগসংক্রান্ত একটি আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো—কোনো সম্পত্তির মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট সব দলিল, রেকর্ড, আদালতের আদেশ এবং আইনগত অবস্থান যাচাই করেই বিষয়টি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু একটি পক্ষের দাবি বা কোনো একক প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অপর পক্ষকে দখলদার বা লুটপাটকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা অনভিপ্রেত।
আমাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ লুটপাটের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সংবাদে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব, দলিল, প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এমন অভিযোগ আমাদের সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
এ ছাড়া কয়েকজন ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়েও যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধ। যথাযথ সরকারি নথি ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কারও নাগরিকত্ব নিয়ে এমন বক্তব্য প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাসী। তবে একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, মালিকানা-সংক্রান্ত দলিলপত্র এবং আদালত ও সরকারি নথি যাচাই করা জরুরি। প্রকাশিত সংবাদে আমাদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছি ।
অতএব, প্রকাশিত সংবাদের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য সংশোধন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট বৈধ দলিলপত্র যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। অবশেষে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদে প্রশাসনসহ কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারী :
রশিদ আমিন,কাটাখালী, হোয়াইক্যং, টেকনাফ।